শাহেনশাহ দেখতে গিয়ে…

৭ মার্চ সকাল ১০টা বেজে ১৭ মিনিট। আগের দিন শুক্রবার মুক্তি পেয়েছে শাকিব খান, নুসরাত ফারিয়া ও নবাগত রোদেলা জান্নাত অভিনীত ‘শাহেনশাহ’। কিন্তু বলাকার উঠোনে কোনো ভিড় চোখে পড়ল না। একটু অবাক হয়ে তাই জানতে চাইলাম, সিনেমা কি শুরু হয়ে গেছে? নিরাপত্তারক্ষীর উত্তর, ‘নাহ্‌, শো তো সাড়ে ১০টায়। আজ তো বঙ্গবন্ধুর ভাষণের দিন, ছুটিতে ঘুমায় লোকে। এই জন্য লোকজন কম।’ একটা ব্যাপার লক্ষ করলাম, বলাকার বেশির ভাগ কর্মীই মাস্ক পরা।

করোনার ভয় বলাকার গেট অতিক্রম করে ভেতরে প্রবেশ করেছে। তাই বেশির ভাগ কর্মীই সতর্ক। আশপাশটা ঘুরে দেখছিলাম। হলে প্রবেশ করলাম ১০টা ২৭–এ। সাড়ে ১০টায় শো শুরুর কথা থাকলেও সিনেমা বড় পর্দায় চলতে শুরু করেছে সময়ের আগেই। বলাকার ওয়াইড সিলভার স্ক্রিনে তাকাতেই দেখলাম, হেলিকপ্টার থেকে লাফিয়ে নামছেন নায়ক শাকিব খান। মনে পড়ল, সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা জানিয়েছিলেন, এই ছবির বাজেট কমপক্ষে আড়াই কোটি টাকা। প্রযোজক সেলিম খান আর পরিচালক শামীম আহমেদ রনি ভালো বলতে পারবেন। তবে ‘খরচ করে যে বানানো, তার ছাপ স্পষ্ট।’

এসব ভাবতে ভাবতেই পর্দায় শাকিব খান বলিউডের ‘শাহেনশাহ’ (১৯৮৮) ছবিতে বলিউড তারকা অমিতাভ বচ্চন স্টাইলে বললেন, ‘রিশতে মে তো হাম তুমহারে…গুন্ডারা বলল, ‘কী বাপ? তখন শাকিব খান বললেন, ‘না, বাপেরও বাপ’। তখন গুন্ডারা বলল, ‘এই, কে রে তুই?’ ‘শাহেনশাহ!’ শাকিব খান নিজের নাম শুনিয়ে দিলেন। এভাবে চলতে থাকল। নবাবপুর এলাকায় দুই নবাব। ছোট নবাব ও বড় নবাব। এই দুই নবাবের বাবা একজন, কিন্তু মা দুজন।

অর্থাৎ, তাঁরা সৎভাই। এই দুই নবাব এলাকায় ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করেছেন। তাঁদের ভয়ে, শোষণে এলাকার লোকজন সদা তটস্থ। দুই নবাবের ভেতরে শত্রু শত্রু খেলা লেগেই আছে। তাঁদের সাঙ্গপাঙ্গরা এলাকায় একটা না একটা হাঙ্গামা বাধিয়েই রাখে। ছোট নবাবের মেয়ে রোদেলা জান্নাত। বড় নবাবের মেয়ে নুসরাত ফারিয়া। প্রথমে শাকিব প্রেমে পড়লেন (বা প্রেমে পড়ার ভান করলেন) রোদেলা জান্নাতের। বড় পর্দায় প্রথমবারের মতো রোদেলা জান্নাতকে যেভাবে দেখা গেল, সেই বর্ণনার লোভ সংবরণ করা মুশকিল।

বলেই ফেলি। পাখি ভালোবাসেন রোদেলা। বিশেষ করে লাভ বার্ড। এক বৃষ্টিতে দৌড়ে ছুটে এলেন তিনি। লাভ বার্ড যেন বৃষ্টিতে ভিজে না যায়, তাই নিজে ভিজে ছাতার মতো করে নিজের দুহাত রাখলেন খাঁচায় বন্দী পাখিদের মাথার ওপর। তারপর বৃষ্টি কমলে ছুটে গেলেন পাখি চিকিৎসকের কাছে। বললেন, ‘আমার পাখিগুলো একটু বৃষ্টিতে ভিজে গেছে। যাতে ওদের ঠান্ডা না লাগে, তাই আগেভাগেই নিয়ে এলাম।’
এরপর তো প্রেম হলো। আর তারপর রোদেলা জান্নাতের সঙ্গে কক্সবাজারে নেচেগেয়ে প্রেমটা পাকা করলেন।

এরপর শাকিব খান প্রেমে পড়লেন বড় নবাবের মেয়ে নুসরাত ফারিয়ার। তারপর সম্ভবত দেশের বাইরের লোকেশনে নেচেগেয়ে প্রেমটা পাকাপোক্ত করলেন। তারপর দুই নবাবই ঠিক করলেন তাঁর মেয়ের বিয়ে দেবেন শাকিবের সঙ্গে। তারপর নবাবপুরের ১০০ বছর উপলক্ষে মেলায় দেখা গেল শাকিব ভন্ড, প্রতারক। দুই নবাব মিলে শাকিবকে মৃত্যুদণ্ড দিলেন। কিন্তু শাস্তি কার্যকর হওয়ার আগে শাকিব শেষ ইচ্ছা জানালেন, তিনি চা খেতে চান। তারপর বিরতি।

বিরতিতে ওপরে এক্সিকিউটিভ ক্লাসে উঠে গুনে দেখলাম, সেখানে ১৭ জন দর্শক। আর নিচে ছবির শুরুতে স্পেশাল ক্লাসে ছিল ২২ জন। সব মিলিয়ে কর গুনে ৪০-৪৫ জনের বেশি হবে না দর্শকসংখ্যা। এরপর দেখা গেল, শাকিব দুই নায়িকার সঙ্গেই আনন্দের গানে উৎসবের ভঙ্গিতে নাচছেন। এর মধ্যে আবার ডনের পুত্র বাংলাদেশে এসেছে। তাকে গুম করে শাকিব নিজেই বনে গেলেন ডনপুত্র। এ পর্যন্ত দেখে আমি হল থেকে বেরিয়ে পড়লাম।

বলাকার ক্যানটিনের কর্মীর কাছে জানতে চাইলাম, প্রথম দিন কেমন দর্শক ছিল? জানালেন, প্রায় আড়াই শ মানুষ দেখেছেন প্রথম শো। আর সঙ্গে এ–ও বললেন, ‘আজ লোক নাই। তবে প্রথম দিন প্রথম শোতে ভালোই লোক হয়েছিল।’ ভালোই কত? ‘অন্তত আড়াই শ’। সঙ্গে এ–ও জুড়ে দিলেন, ‘সিনেমা তো খারাপ না। কাল থেকে বোধ হয় লোক হইব। কে জানে… একেই বোধ হয় বলে বাণিজ্যিক ছবি।

About pullman pullman

Check Also

‘আফসোস অনেকে সবকিছু জেনেও নিয়ম ভঙ্গ করছে’

ভয়াল এক সময় পার করছে সারা বিশ্ব। সারা বিশ্বের এখন সবচেয়ে বড় সংকট করোনাভাইরাস। কী …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *