ব্যতিক্রমী চরিত্রে আফজালের ঝাঁপ

অভিনয়ে নিয়মিত নন আফজাল হোসেন। কিন্তু এমন কয়েকজন নির্মাতা আছেন, যাঁদের অনুরোধ তিনি এড়াতে পারেন না। এমন কিছু মানুষ আছেন, যাঁদের কাছ থেকে অভিনয়ের প্রস্তাব পেলে আগেপিছে কোনো ভাবনার অবকাশ থাকে না। আফজাল হোসেনের কাছে সৈয়দ সালাহউদ্দীন জাকী তেমনই একজন পরিচালক। বরেণ্য নির্মাতা জাকীর ডাকে নতুন একটি টেলিছবির কাজ শেষ করলেন তিনি।

টেলিছবির নাম অগ্নিফসল। সেখানে একেবারে অন্য রকম একটি চরিত্রে দেখা যাবে আফজালকে। ব্যতিক্রমী চরিত্র পেয়ে ঝাঁপ দিয়েছেন তিনি। তিন দিনের শুটিংয়ে ছবির কাজ শেষ করেন তিনি। আফজাল হোসেন বলেন, ‘অভিনয়কে কখনোই পেশা হিসেবে নিইনি। আমি অন্য কাজ করি। কিন্তু যে একবার অভিনয় করে, সে এর সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করতে পারে না। আমি মাঝে মাঝে করি, তবে আমাকে মানসিকভাবে প্রস্তুত থাকতে হয়।

আফজাল হোসেনের মতে, সৈয়দ সালাহউদ্দীন জাকী যখন কোনো কাজ করেন, তখন গল্পটা কী, সেটা ভাববার দরকার হয় না। যা-ই করেন, সেটার সঙ্গে থাকতে পারলে ভালো লাগে। আফজাল বলেন, ‘সেই প্রথম থেকে জাকী ভাই যখন বাচ্চাদের তথ্যচিত্র বানাতেন, তখনো তাঁর সঙ্গে থাকতাম। এরপর থেকে যখনই তিনি কোনো ছবি বানিয়েছেন, আমি ছিলাম। এই নাটক লেখার পর “করতে চাই, করতে চাই” বলে আমার সঙ্গে তাঁর ভাবনা শেয়ার করেছিলেন।

তিনি যখন বলেন, আমি কোনো কিছু ভাবি না। তাঁর সঙ্গে কাজ করা মানেই আমার কাছে নতুন অভিজ্ঞতা অর্জনের সুযোগ। দীর্ঘদিন পর একটি পূর্ণদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র বানানোর ঘোষণা দিয়েছিলেন সৈয়দ সালাহউদ্দীন জাকী। প্রাথমিক কাজও শুরু করেছেন। তার আগে অগ্নিফসল নির্মাণ করে চমকে দিলেন তিনি। আফজাল হোসেন বলেন, ‘তিনি পুনে ফিল্ম ইনস্টিটিউটের গোল্ড ম্যাডেলিস্ট। তিনি যখন কাজ করেন, আমার মনে হয়, আমার উচিত তাঁর সঙ্গে থাকা, আমি এভাবেই দেখি বিষয়টা।’

অগ্নিফসল টেলিছবিতে আরও অভিনয় করেছেন ফারহানা মিঠু, ইয়াশ রোহান, মৌসুমী মৌ প্রমুখ। স্বাধীন বাংলা বেতার থেকে প্রচারিত সৈয়দ সালাহউদ্দীন জাকীর লেখা ও লাকী আখান্দ্–এর সুরে ‘ঐ চেয়ে দেখ পূর্বাকাশ ফিকে হল’ গানটি এই টেলিছবিতে শোনা যাবে। একটি পূর্ণদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্রেও কাজ করছেন আফজাল হোসেন। গাঙচিল নামে ওই ছবির পরিচালক নঈম ইমতিয়াজ। আফজালের সহকারী হিসেবে দীর্ঘদিন কাজ করেছেন এই পরিচালক।

গতকাল সারা দিন তেজগাঁওয়ের চ্যানেল আই কার্যালয় এবং মানিক মিয়া অ্যাভিনিউতে শুটিং করে ছবিটির কাজ শেষ করেন তিনি। ছবিতে একটি টেলিভিশন চ্যানেলের স্বত্বাধিকারী হিসেবে দেখা যাবে আফজাল হোসেনকে। তিনি বলেন, ‘কাজের ক্ষেত্রে বয়সে ছোট-বড় ভাবি না। আমি সব সময় কাজটাই উপভোগ করি। অভিজ্ঞতা কম, এ বিষয়টিও ভাবনায় থাকে না। আমি মনে করি, প্রত্যেকটা মানুষের কাজের নিজস্ব একটা ধরন আছে। আমি সব সময় মানুষকে পর্যবেক্ষণ করতে পছন্দ করি। সবকিছু আমার কাছে নতুনই লাগে।’

সৈয়দ সালাহউদ্দীন জাকী বলেন, ‘আফজাল আমার বিরোধী দলের প্রধান। চাকরি করি বলে সে সব সময় আমাকে তিরস্কার করে। বলে, আমি নাকি চাকরিবাকরি করে সময় নষ্ট করছি। সুবর্ণা, আসাদ, আফজালরা আমাদের বলয়ের। স্বাধীনতার পর আফজাল প্রথম আমার সঙ্গে কাজ করল, একটা ডকুড্রামায় আর্ট ডিরেকশন দিল। তারপর পঁয়তাল্লিশ বছরের সম্পর্ক। আফজালের কাজ প্রসঙ্গে জাকী বলেন, ‘ঢাকা থিয়েটার ও বাইরে আফজাল ভালো কিছু কাজ করেছে।

আমার এ টেলিছবিতে ব্যতিক্রম চরিত্রে পেয়ে ঝাঁপিয়ে পড়েছিল। শারীরিক অক্ষমতা ছাপিয়ে আমাকেও উঠে আসতে হচ্ছে, সে কাজে আফজালসহ সবাই সাহায্য করছে। আশা করি, ভবিষ্যতেও তারা আমার সঙ্গে থাকবে। আফজাল হোসেন নিজেও নির্মাণ করছেন একটি ডকু ফিকশন। কথাসাহিত্যিক মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়ের জীবনকে কেন্দ্র করে মানিকের লাল কাঁকড়া নামের ওই ছবি প্রসঙ্গে তিনি জানান, শহরের অংশের কাজ শেষ। বাকি গ্রামের দৃশ্যগুলো। সর্বশেষ ঢাকা অ্যাটাক ছবিতে একটি অতিথি চরিত্রে দেখা গেছে আফজালকে।

About pullman pullman

Check Also

‘আফসোস অনেকে সবকিছু জেনেও নিয়ম ভঙ্গ করছে’

ভয়াল এক সময় পার করছে সারা বিশ্ব। সারা বিশ্বের এখন সবচেয়ে বড় সংকট করোনাভাইরাস। কী …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *